৮ম বছরে পদার্পণ, সাত বছরের পথ চলার গল্প।
২৮শে আগস্ট, ২০১৮ তারিখে প্রাচুর্য ডট কমের যাত্রা শুরু হয়েছিল এক অনাড়ম্বর পরিবেশে। দেখতে দেখতে আমরা সাতটি বছর সাফল্যের সাথে পার করে অষ্টম বছরে পদার্পণ করছি। আমাদের শুরুর দিনগুলো ছিল অনেকটাই অপেশাদার, কিন্তু আমাদের কাজের পেছনে ছিল এক গভীর অনুপ্রেরণা: প্রযুক্তির মাধ্যমে দেশের একটি নিশ সেক্টরের জনগণকে সাহায্য করা। আমাদের লক্ষ্য ছিল, দেশের বিশাল জনগোষ্ঠীর জন্য না হলেও, একটি ক্ষুদ্র অংশের জন্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে এমন একটি সমাধান তৈরি করা, যা তাদের দৈনন্দিন জীবনে কাজে আসবে এবং স্বস্তি দেবে।
এটি কোনো ব্যবসা নয়, এটি আমাদের প্যাশনঃ
এই সাত বছরের দীর্ঘ সময়ে আমরা আমাদের কাজকে কখনোই নিছক ব্যবসায়িক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখিনি। প্রাচুর্য ডট কমের মূল চালিকাশক্তি ছিল আমাদের প্যাশন। অন্যের উপকার করা এবং তাদের সমস্যা দূর করার মধ্যে যে আত্মিক আনন্দ ও তৃপ্তি আছে, সেটাই আমরা উপভোগ করি। যদি আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি সম্পূর্ণ ব্যবসায়িক হতো, তাহলে হয়তো আমাদের সার্ভিস চার্জ একটি নির্দিষ্ট সময়ের (যেমন, এক বছর) জন্য সীমাবদ্ধ থাকত। কিন্তু আমরা চেয়েছি গ্রাহকদের একটি ঝামেলামুক্ত অভিজ্ঞতা দিতে। তাই, আমরা পুরোনো গ্রাহকদের ওপর বার্ষিক চার্জের বোঝা না চাপিয়ে নতুন গ্রাহক তৈরির দিকে মনোযোগ দিয়েছি।
আমাদের সার্ভিসের কাটাগরিঃ
আমাদের সার্ভিসকে আমরা দুটি প্রধান ভাগে বিভক্ত করেছি মৌলিক এবং ভ্যালু এডেড
১। মৌলিক সেবা (Basic Service): আমাদের মূল আকর্ষণ হলো এই বেসিক সার্ভিস। এটি এমন একটি সিস্টেম, যেখানে প্রাইজবন্ডের ড্র ফলাফল মিলে গেলে গ্রাহকদের মোবাইল এসএমএস এবং ইমেলের মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়। এটিই আমাদের সেবার মূল অংশ।
২। ভ্যালু অ্যাডেড সার্ভিস (Value Added Service): মৌলিক সেবার পাশাপাশি আমরা বেশ কিছু জনপ্রিয় ও উদ্ভাবনী ভ্যালু অ্যাডেড সার্ভিস চালু করেছি, যা প্রাইজবন্ড চেকিংয়ের বাইরেও গ্রাহকদের বহু সুবিধা দেয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো:
⭕ বিজয়ী না হলেও নোটিফিকেশন: ড্র-তে বন্ড বিজয়ী না হলেও গ্রাহকরা ইমেলের মাধ্যমে নোটিফিকেশন পান, যা তাদের মানসিক চাপ কমায়।
⭕ মিস ফায়ার' চেকিং: এটি আমাদের অন্যতম সফল একটি উদ্যোগ। এই সিস্টেমের মাধ্যমে আমরা এমন প্রাইজবন্ডগুলো চিহ্নিত করি, যেগুলো বিজয়ী নম্বর থেকে মাত্র একটি সংখ্যার জন্য আলাদা। অর্থাৎ, আপনার বন্ডের একটি মাত্র ডিজিট যদি ঠিক থাকত, তাহলেই আপনি বিজয়ী হতেন!
এটি শুনতে কিছুটা হতাশাজনক মনে হতে পারে, কারণ আপনি জয় থেকে মাত্র এক ধাপ দূরে ছিলেন। কিন্তু মজার বিষয় হলো, গ্রাহকদের মধ্যে এটি ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে। যদিও এই ফিচারটি মানুষকে কিছুটা মনোকষ্ট দেয়, তবুও আমরা এই কাজটি করে আনন্দ পাই, কারণ এটি একই সঙ্গে হতাশা এবং ভবিষ্যতে জেতার জন্য নতুন করে আশা জাগিয়ে তোলে।
⭕ জোড়া বন্ড সংগ্রহ: জোড়া বন্ড সংগ্রহ করার মাধ্যমে একাধিক পুরস্কার জেতার সুযোগ তৈরি হয়। যখন কোনো গ্রাহকের বন্ড জোড়া বন্ড হিসেবে পুরস্কার পায়, তখন একই সাথে একাধিক পুরস্কার পাওয়ার সুযোগ থাকে।
আমরা একটি পদ্ধতি তৈরি করেছি, যার মাধ্যমে গ্রাহকরা নিজেদের বন্ডগুলোর মধ্যে জোড়া বন্ড আছে কিনা তা পরীক্ষা করতে পারেন। একইসাথে, অন্য গ্রাহকদের বন্ডের সাথে নিজের বন্ডের জোড়া মিললে সেটিও চিহ্নিত করার সুযোগ রাখা হয়েছে। যে গ্রাহকের সাথে বন্ডের জোড়া মিলেছে, তার সাথে যোগাযোগের জন্য একটি মাধ্যমও তৈরি করা হয়েছে। এই উদ্যোগটি মানুষের মধ্যে আগ্রহ তৈরি করেছে। আমরা জোড়া বন্ডের বিষয়ে তিনটি শিক্ষামূলক ভিডিও প্রকাশ করেছি, যা এই ধারণাটিকে আরও জনপ্রিয় করেছে।
⭕ মেয়াদোত্তীর্ণ পুরস্কার চেক: যেসব পুরস্কারের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে, সেগুলোও আমাদের সিস্টেম চেক করে দেয়। এই ফিচারটি গ্রাহককে জানায় যে তিনি হয়তো একসময় বিজয়ী হয়েছিলেন, কিন্তু সময়মতো বন্ড চেক না করায় পুরস্কারটি নিতে পারেননি। এই তথ্য পেয়ে গ্রাহকের মনে আফসোস তৈরি হলেও, এটি তার মধ্যে প্রাইজবন্ড জেতার বিশ্বাস তৈরি করে এবং ভবিষ্যতে পুরস্কারের জন্য আরও বেশি আশা জাগায়।
⭕ বিজয়ীদের তালিকা (Meet Winners): আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হলো প্রাইজবন্ডের বিজয়ীদের একটি বিস্তারিত তালিকা নিয়মিত প্রকাশ করা। এই তালিকা শুধু একটি ঘোষণা নয়, বরং এটি একটি শক্তিশালী হাতিয়ার যা মানুষের মনে প্রাইজবন্ড সম্পর্কে থাকা দীর্ঘদিনের অবিশ্বাস দূর করতে সাহায্য করছে।
অনেকে মনে করতেন, প্রাইজবন্ড আসলে একটি লটারি, যেখানে কেউই পুরস্কার পায় না। আমাদের এই ফিচারটি সরাসরি প্রমাণ দিয়ে সেই মিথ্যা ধারণা ভেঙে দিচ্ছে। এটি মানুষকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় যে প্রাইজবন্ডে সত্যিই পুরস্কার জেতা সম্ভব।
⭕ বাই-সেল মার্কেটপ্লেস: এটিও আমাদের একটি সফল উদ্যোগ। এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে গ্রাহকরা প্রাইজবন্ড কেনা-বেচার জন্য বিজ্ঞাপন দিতে পারেন এবং আগ্রহী ক্রেতা বা বিক্রেতার সাথে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারেন। এবং নিজেদের মধ্যে আলাপ আলোচনা করে কেনা বেচা সম্পন্ন করবেন। এই প্রক্রিয়ায় আমরা শুধুমাত্র একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে দিয়েছি, অ্যাডমিন হিসেবে আমরা কোনো কেনা-বেচায় যুক্ত নই।
⭕ আমাদের প্ল্যাটফর্মে আমরা বিভিন্ন ধরনের ক্লাব তৈরি করেছি, যেমন 'থাউজেন্ড ক্লাব', '৫০০+ ক্লাব' এবং 'সেঞ্চুরি ক্লাব'। এই ক্লাবগুলোর সদস্যরা একে অপরের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। আমরা চেয়েছি আমাদের গ্রাহকরা যেন একে অপরের সাথে একটি মেলবন্ধন তৈরি করতে পারে, একটি কমিউনিটি গড়ে তুলতে পারে। সেই লক্ষ্যে আমরা আমাদের সার্ভিসের বিভিন্ন জায়গায় টেক্সট করার সিস্টেম করে দিয়েছি। যখন আমরা জানতে পারি আমাদের একজন গ্রাহক অন্যজনের সাথে যোগাযোগ করছেন, তখন আমরা সত্যিই খুব আনন্দিত হই। এই পারস্পরিক সম্পর্ক গড়ে তোলা আমাদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল, যা আজ সফল।
শিক্ষা এবং উন্নয়ন:
এই সাত বছরে আমরা শুধু সেবা প্রদান করিনি, আমরা অনেক কিছু শিখেছি। শুরুতে আমাদের সিস্টেমে কিছু ত্রুটি ছিল, যা গ্রাহকদের ভালো অভিজ্ঞতা দিচ্ছিল না। কিন্তু আমরা গ্রাহকদের মূল্যবান মতামতকে গুরুত্ব দিয়েছি এবং তার ভিত্তিতে আমাদের সার্ভিসটিকে সম্পূর্ণরূপে ত্রুটিমুক্ত করতে পেরেছি। গ্রাহকদের চাহিদা এবং আমাদের মূল লক্ষ্যকে এক করে আমরা প্রতিনিয়ত নতুন নতুন ফিচার তৈরি করে চলেছি। আমরা আমাদের অনেক গ্রাহকের কাছ থেকে মূল্যবান মতামতকে সবসময়ই গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করি।
সাধারণ মানুষকে প্রাইজবন্ড সম্পর্কে সঠিক ধারণা দিতে আমরা নিয়মিত শিক্ষামূলক ভিডিও তৈরি করে ইউটিউবে প্রকাশ করছি। এই ভিডিওগুলো মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে এবং প্রাইজবন্ড সম্পর্কিত ভুল ধারণা দূর করতে সহায়তা করছে।
অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রাম: আমাদের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর
আমরা সবসময় চেয়েছি, আমাদের গ্রাহকরা যেন আমাদের সেবায় সন্তুষ্ট হয়ে স্বপ্রণোদিত হয়ে অন্যকে রেফার করেন। আমাদের প্রতিটি গ্রাহক যেন আমাদের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে কাজ করেন। বাস্তবেও তাই হয়েছে! আমাদের সদস্যদের একটি বিশাল অংশ যুক্ত হয়েছেন অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রামের মাধ্যমে, যা আমাদের একটি অত্যন্ত সফল উদ্যোগ।
আমাদের প্রাপ্তি: মানুষের ভালোবাসা ও বিশ্বাস
এই দীর্ঘ সময়ে আমাদের সবচেয়ে বড় অর্জন হলো মানুষের ভালোবাসা, আস্থা এবং বিশ্বাস। মানুষের নিরন্তর সমর্থন আমাদের কাজ করার সাহস ও শক্তি যুগিয়েছে। শুরুতে আমাদের প্রথম ১০০ জন সদস্য পেতে এক মাস সময় লেগেছিল। তিন বছর তিন মাস পর ২০২১ সালের শেষে আমাদের সদস্য সংখ্যা দাঁড়ায় ৬,৩০০তে। সে সময় আমরা প্রায় আশাই ছেড়ে দিয়েছিলাম। কিন্তু ২০২২ সালে অপ্রত্যাশিতভাবে এক ‘বুম’ ঘটে। পূর্ববর্তী তিন বছরে যা হয়নি, ২০২২ সালে তার দ্বিগুণেরও বেশি সদস্য আমাদের সাথে যুক্ত হয়। আমরা আবার আশার আলো দেখতে পেলাম এবং নিয়মিতভাবে সার্ভিসকে আপডেট করা শুরু করলাম। এরপর থেকে আমাদের প্রবৃদ্ধি ধারাবাহিকভাবে বাড়তে থাকে। সাত বছর শেষে আমাদের সদস্য সংখ্যা ১ লক্ষ ৭৪ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। এই সংখ্যাটি কেবল একটি পরিসংখ্যান নয়, এটি আমাদের প্রতি মানুষের গভীর আস্থার প্রতিফলন।
Latest Blog
আপনার কাছে যদি ১৯৯৫, ২০০০, ২০০২ সালের পুরাতন প্রাইজবন্ড থাকে, হতাশ হবেন না! অনেকেই ভাবতে পারেন এত পু...
১৩ মে ২০২৪ ৬,৬৮৩
কার্যকর থাকলেই যে সকল প্রাইজবন্ড সকল ড্র’তে অংশ নিবে এমন নয়। আপনার কেনা প্রাইজবন্ড ড্রতে আসবে কিনা এ...
২৬ অক্টোবর ২০২৪ ৫,৮০০
প্রাইজবন্ডের ড্র বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক নির্ধারিত স্থানে 'ড্র' কমিটি কর্তৃক পরিচালিত হয়। ড্র অনুষ্ঠ...
০৭ মে ২০২৪ ৫,৪৬০
তবে খুশির খবর হলো, একজন প্রথম পুরস্কার জিতেছেন! এছাড়া ৫ জন ৪র্থ পুরস্কার এবং ৩৬ জন ৫ম পুরস্কার অর্জন...
৩১ অক্টোবর ২০২৪ ২৩,৫৮৫
প্রাচুর্য ডট কম হলো প্রাইজবন্ড বিনিয়োগকারীদের জন্য এক নির্ভরযোগ্য ডিজিটাল সঙ্গী। আপনার মূল্যবান প্রা...
১৩ জানুয়ারী ২০২৬ ৭৫৭
প্রাইজবন্ডে যদিও পুরস্কার জেতার সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে কম, তবুও মানুষ এই প্রাইজবন্ড কেনার মাধ্যমে নি...
২৯ মে ২০২৪ ৯,৭৫১
প্রাইজবন্ড ক্রয়ের ক্ষেত্রে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থাকা আবশ্যক নয়। যেকোনো বাংলাদেশি নাগরিক নগদ টাকা দিয়...
১৪ মে ২০২৪ ৫,০২৬
আসন্ন ১১৬তম ড্র থেকে, যারা বিজয়ী হবেন না তাদেরকেও আমরা ইমেইলের মাধ্যমে নোটিফাই করা হবে।
০২ জুলাই ২০২৪ ৪,৬৪৩
১২০তম প্রাইজবন্ড ড্র-তে প্রাচুর্য ডট কমের ৬৯ জন সদস্য বিভিন্ন পুরস্কার অর্জন করেছেন! আমাদের প্রত্যাশ...
৩১ জুলাই ২০২৫ ৩৩৭,৫১১








