১২১তম প্রাইজবন্ড ড্র এবং 'ঘঙ' সিরিজের ভাগ্য-বিপর্যয়!
আগামী ২রা নভেম্বর, ২০২৫, বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রাইজবন্ডের বহু প্রতীক্ষিত ১২১তম ড্র অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। প্রতি ত্রৈমাসিকে অনুষ্ঠিত হওয়া এই ড্র সবসময়ই বহু মানুষের ভাগ্য নির্ধারণ করে, কিন্তু এবার এতে যুক্ত হয়েছে এক অপ্রত্যাশিত ও নাটকীয় মোড়— 'ঘঙ' সিরিজের প্রাইজবন্ডের অন্তর্ভুক্তি!
নাটকীয়তার নেপথ্যে: সরকারি ছুটির খেল
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রাইজবন্ড সংক্রান্ত একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম হলো, কোনো বন্ড ড্র-তে অংশগ্রহণ করতে হলে বিক্রয়ের তারিখ থেকে কমপক্ষে দুই মাস অতিবাহিত হতে হবে। 'ঘঙ' সিরিজের প্রাইজবন্ড বিক্রি শুরু হয়েছিল ২রা সেপ্টেম্বর, ২০২৫ তারিখে।
নিয়ম অনুযায়ী, ১২১তম ড্র টি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল ৩১শে অক্টোবর, ২০২৫ তারিখে। কিন্তু নাটকটি ঠিক এখানেই! ৩১শে অক্টোবর একটি সরকারি ছুটি থাকায় ড্র'টি পিছিয়ে গিয়ে নতুন তারিখ ধার্য হয়েছে ২রা নভেম্বর, ২০২৫।
যদি ড্র'টি ৩১শে অক্টোবর হতো, তাহলে 'ঘঙ' সিরিজের বন্ডগুলির মেয়াদ পূর্ণ হতো না এবং তারা ড্র-তে অংশগ্রহণ করতে পারত না। কিন্তু ২রা নভেম্বর ড্র হওয়ায়, ২রা সেপ্টেম্বর থেকে ২রা নভেম্বর পর্যন্ত ঠিক দুই মাস পূর্ণ হচ্ছে! অর্থাৎ, সরকারি ছুটির কারণে মাত্র দুই দিনের জন্য পিছিয়ে যাওয়া এই ড্র-টিই 'ঘঙ' সিরিজের ভাগ্য খুলে দিয়েছে। একেই যেন বলে – কারো সর্বনাশ, কারো পৌষ মাস! যে সামান্য দেরির কারণে অনেকের হয়তো সামান্য বিরক্তি ছিল, সেটাই কিছু সংখ্যক বন্ডধারীর জন্য সৌভাগ্য নিয়ে আসতে পারে।
আনন্দ কম, সতর্কতা বেশি: 'ঘঙ' সিরিজের সীমিত উপস্থিতি
'ঘঙ' সিরিজ ড্র-তে এলেও, আনন্দের ঢেউ যেন পুরোপুরি লাগছে না। এই ড্র-তে 'ঘঙ' সিরিজের খুবই কম সংখ্যক বন্ড অংশ নিতে পারবে। কেন?
কারণ, বন্ড বিক্রির দুই মাস পূরণের সময়সীমা ২রা নভেম্বর ড্র-এর দিনেই পূর্ণ হচ্ছে। এর মানে হলো, শুধুমাত্র ২রা এবং ৩রা সেপ্টেম্বর তারিখে যে 'ঘঙ' সিরিজের প্রাইজবন্ডগুলো বিক্রি হয়েছে, সেগুলোই ১২১তম ড্র-এর জন্য যোগ্য হবে। ৪ঠা সেপ্টেম্বর বা তার পরে বিক্রি হওয়া বন্ডগুলি ২রা নভেম্বরের মধ্যে দুই মাস সময়সীমা পার করতে পারছে না, তাই তারা এই ড্র-তে অংশ নিতে পারবে না।
আমাদের ধারণা, মাত্র এই দুই দিনে 'ঘঙ' সিরিজের প্রাইজবন্ডের বিক্রি খুব বেশি ছিল না। ফলে, সিরিজটি নিয়মের খাতিরে ড্র-তে এলেও, হাতেগোনা কিছু বন্ডই কেবল পুরস্কার জেতার সুযোগ পাবে। এটিকে বলা যেতে পারে – নামমাত্র অংশগ্রহণ। তবুও, এই স্বল্প সংখ্যক বন্ডধারীদের মধ্যে যদি আপনার বন্ড থাকে, তবে এটি আপনার জন্য এক অপ্রত্যাশিত সুযোগ!
পুরস্কারের বিপুল সম্ভার: ৮৩টি সিরিজের ভাগ্য পরীক্ষা
প্রাইজবন্ডের এই সর্বশেষ ড্র অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে মোট ৮৩টি সিরিজের মধ্যে। বর্তমানে বাজারে মোট ৮ কোটি ২০ লাখ প্রাইজবন্ড সচল আছে (বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, ৮২টি সিরিজ চালু থাকলেও এবারের ড্র-তে সম্ভবত নতুন 'ঘঙ' সিরিজ সহ মোট ৮৩টি সিরিজের জন্য পুরস্কার ঘোষণা করা হবে)।
১২১তম ড্র-তে পুরস্কারের তালিকাটি বেশ আকর্ষণীয়:

এই বিপুল অঙ্কের পুরস্কার আপনার ভাগ্য বদলে দিতে পারে। ২রা নভেম্বরের এই ড্র-টি কেবল নিয়মের খেলা নয়, এটি আশা, প্রতীক্ষা এবং নাটকীয় সম্ভাবনার এক মহা-উত্সব!
Latest Blog
একটি প্রচলিত ভুল ধারণা যে প্রতিটি ড্রয়ের পর পুরানো প্রাইজবন্ড অকার্যকর হয়ে যায় এবং নতুন প্রাইজবন্...
২১ অক্টোবর ২০২৪ ৪,৫১৩
বাংলাদেশের প্রথম প্রাইজবন্ড ১৯৭৪ সালে ১০ ও ৫০ টাকা মূল্যমানে চালু হয়। ১৯৯৫ সালে ১০০ টাকা মূল্যের প্র...
০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১,৫১৭
প্রাইজবন্ড ড্র সারা বাংলাদেশের জন্য একই দিনে এবং একই প্রক্রিয়ায় অনুষ্ঠিত হয়। প্রাইজবন্ড ড্র বরিশা...
০৫ জুন ২০২৪ ৩,৩৪২
না, একজনের প্রাইজবন্ডের নম্বর দিয়ে অন্য কেউ পুরস্কার নিতে পারবে না। প্রাইজবন্ড একটি বাহক দলিল, তাই...
২৫ মে ২০২৪ ৫,৫৪২
আমরা এমন একসময়ে বাস করছি, যেখানে স্ক্যামিং বা প্রতারণা খুব সাধারণ ঘটনা। পৃথিবীর সব দেশেই এমন ঘটনা ঘট...
১৩ ডিসেম্বর ২০২৪ ৪,১১২
প্রাইজবন্ড একবার কিনলে শুধু একবারই ড্র-এর আওতায় আসবে না। প্রাইজবন্ড হল বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক পরিচা...
১৩ মে ২০২৪ ৬,১৫৯
আমাদের প্রধান লক্ষ্য শুধু বর্তমান গ্রাহকদের উপর বার্ষিক চার্জের বোঝা চাপানো নয়, বরং একটি আকর্ষণীয়...
১৯ মে ২০২৫ ২,১২৪
একটি নম্বর একবার বিজয়ী হওয়ার পর কিভাবে আবার বিজয়ী হয়? পরের ড্রতে অংশগ্রহণ করতে না পারলে তো আর বি...
২৯ মে ২০২৪ ৪,১৪১
প্রাইজবন্ড কেনার মূল উদ্দেশ্য হলো অর্থ সঞ্চয় করা। পুরস্কার জেতাটা একটি কাকতালীয় ফল মাত্র।
০৮ জুন ২০২৫ ৩,২১৮








