প্রাইজবন্ড কি এবং কেন?

যাদের হাতে অল্প টাকা আছে এবং সেই সাথে সাথে সঞ্চয় করে নিজের আর্থিক অবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে চান তাদের জন্য সবচেয়ে কার্যকরী মাধ্যম হলো বাংলাদেশ প্রাইজবন্ড কেনা। বাংলাদেশ প্রাইজবন্ড হলো জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর কর্তৃক সাধারণ মানুষের মধ্যে সঞ্চয়ের লক্ষ্যে প্রবর্তিত এক প্রকার কাগুজে মুদ্রা। ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশ সর্বপ্রথম প্রাইজবন্ড চালু করে। আসলে প্রাইজবন্ড বিক্রি করে সরকার সরাসরি জনগণের কাছ থেকে ঋণ নেয় এবং তা কিনে সরকার সে ঋণ পরিশোধ করে। এ বন্ড ক্রয় করে গ্রাহক তার ব্যক্তিগত লাভের পাশাপাশি দেশ গড়ার কাজেও নিজেকে নিয়োজিত করতে পারে।

সেবার সুবিধা:

১.একজন গ্রাহক চাইলে যেকোনো পরিমাণের ১০০ টাকা মূল্যমানের বাংলাদেশ প্রাইজবন্ড কিনতে পারেন।

২.প্রথম পুরস্কার বিজয়ী প্রত্যেককে ৬ লাখ ও দ্বিতীয় পুরস্কার বিজয়ীদের ৩ লাখ ২৫ হাজার টাকা দেয় সরকার। এ ছাড়া তৃতীয় পুরস্কার বিজয়ী দুইজনকে এক লাখ, চতুর্থ পুরস্কার বিজয়ী দুইজনকে ৫০ হাজার এবং পঞ্চম পুরস্কার বিজয়ী চল্লিশজনকে ১০ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়।

৩.বিক্ষিপ্তভাবে ছড়িয়ে থাকা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সঞ্চয় বন্ডের মাধ্যমে আহরণ করা

প্রক্রিয়া:

বাংলাদেশ ব্যাংকের সব শাখা অফিস, সব বাণিজ্যিক ব্যাংক, জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের অধীন সারাদেশে ৭১টি সঞ্চয় ব্যুরো অফিস এবং পোস্ট অফিস থেকে ১০০ টাকা মূল্যমানের বন্ড কেনা ও ভাঙানো যায়। বন্ড কিনতে কোনো রকম জাতীয় পরিচয়পত্র লাগে না তবে পুরস্কারের টাকা তুলতে গেলে বন্ডের রশিদ, জাতীয় পরিচয়পত্রের সত্যায়িত ফটোকপি, ব্যাংক হিসাবের বিবরণ, নমিনি এবং প্রথম শ্রেণীর গেজেটেড কর্মকর্তা কর্তৃক সনাক্তকারীর স্বাক্ষর লাগবে। ১০০ টাকা মূল্যমানের প্রাইজবন্ডের ”ড্র” অনুষ্ঠিত হয় বছরে চারবার: ৩১ জানুয়ারি, ৩০ এপ্রিল, ৩১ জুলাই ও ৩১ অক্টোবর। বন্ড কেনার দুই মাস পার হওয়ার পর প্রাইজবন্ড ”ড্র”র আওতায় আসে। ”ড্র” অনুষ্ঠানের দুই বছর পর্যন্ত পুরস্কারের টাকা দাবি করা যায়। এর মধ্যে কেউ দাবি না করলে পুরস্কারের অর্থ তামাদি হয়ে সরকারি কোষাগারে ফেরত যায়। আপনি “ড্র” এর ফলাফল দেখতে পারবেন পত্রিকায় অথবা বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েব সাইটে। আর যদি প্রাইজবন্ডে পুরস্কার না পান, তবে যে কোন সময়ে প্রাইজবন্ডের সমমূল্যের টাকা সরকারি/বেসরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে অথবা পোস্ট অফিসেও ভাঙ্গাতে পারবেন।

সেবার ক্যাটাগরি নাগরিক সেবা
মন্ত্রণালয় অর্থ মন্ত্রণালয়
অধিদপ্তর জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর
বিভাগ অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ
যোগ্যতা যেকোন বাংলাদেশী নাগরিক
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রয়োজন নেই
প্রয়োজনীয় খরচ প্রাইজবন্ডের মূল্য ছাড়া কোনো সার্ভিস চার্জ নেই। তবে পুরস্কারের টাকা থেকে ২০% টাকা কেটে রাখা হয়
সেবা প্রাপ্তির সময় সাথে সাথে
কাজ শুরু হবে জাতীয় সঞ্চয় ব্যুরো, বাংলাদেশ ব্যাংকসহ তফসিলি ব্যাংকসমূহ এবং ডাকঘর এর সংশ্লিষ্ট বিভাগে
আবেদনের সময় সারা বছর
দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা
সেবা না পেলে কার কাছে যাবেন পরিচালক (প্রশাসন), ফোন: ৮৮-০২-৯৫৮৮৪১০; মোবাইল: ৮৮-০১৭৩১-৮৯৩৮০৬
ইমেইল: ayezuahmed@yahoo.com, যুগ্ন সচিব (প্রশাসন), ফোন: ৮৮-০২-৯৫৭৬৫০৩; মোবাইল:
৮৮-০১৫৫২৪৯০৫৪২, ইমেইল: parvinbanu45@yahoo.com